ফিচার

দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং উন্নয়নে বিএনপি

মুক্তচিন্তা:

বাংলাদেশের ইতিহাস যুগপৎ স্বাধীনতা পাওয়া ও হারানোর ইতিহাস। একদিকে আমরা যতোটা স্বাধীনতা পাই, অন্যদিকে আমরা তার অনেক বেশী হারাই। এক দশকে আমরা যতোটা রাজনীতিক স্বাধীনতা পাই, অর্থাৎ রক্ত দিয়ে অর্জন করি; এক বছরেই তার কয়েক গুণ চিন্তার ও বাকস্বাধীনতা হারাই। দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন পাওয়ার ইতিহাসকে সবচেয়ে বেশী সমৃদ্ধ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। অন্যদলগুলোর কুশাসনে যা বারবার হারিয়েছে জাতি বিএনপি-ই তা উদ্ধার করেছে। তাই তো দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের কাছে দলটি এতো জনপ্রিয়।

আমরা অতিবাহিত করছি বিএনপি’র প্রতিষ্ঠার ৪২ বছর। ১৯৭৮ সালের আজকের দিনে স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ৭৫ জনের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। তিনিই ছিলেন ঐ কমিটির আহ্বায়ক। এর আগেই ৩০ এপ্রিল ১৯৭৭ সালে তিনি বিএনপি’র নির্যাস ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দলের প্রথম মহাসচিব ছিলেন এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।
১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে তখনকার পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েও ক্ষমতা না পাওয়াই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয় ১৯৭১-এর ২৬ মার্চ। ঐদিন তখনকার বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সবাইকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান এবং নিজেও জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসাবে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। নয় মাস ব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের পরে ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। পরবর্তীতে বিএনপি গঠিত হলে দেখা যায় খেতাবপ্রাপ্ত এবং খেতাব ছাড়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বিএনপিতে সর্বাধিক। অথচ স্বাধীনতার পরে যে দলটি ক্ষমতায় ছিল সে দলটিই ১৯৭৩-এর নির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত করে।
তাছাড়া স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাস এবং দুর্নীতির মাধ্যমে স্বাধীনতাকে বিষাক্ত করে তুলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দূর্ভিক্ষ আসে। আসে একদলীয় সরকার ‘বাকশাল’। যার পরিণতিতে আওয়ামী লীগের একটি বিদ্রোহী গ্রুপ আওয়ামী লীগের তৎকালীন সিনিয়ার নেতা মোশতাক বাহিনীর নেতৃত্বে ১৯৭৫-এর ১৫ আগষ্ট সংঘঠিত হয়। যে দলের বেশীরভাগ নেতা স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেনি, লুঠপাট এবং আমোদপ্রমোদে ব্যস্ত ছিল সে দলই স্বাধীনতার চেতনার কাহিনী বলে অদ্যাবধি স্বাধীনতার বেশীরভাগ ফসল খেয়েই যাচ্ছে। ইতিহাস বিকৃত করে মনের মাধুরী মিশিয়ে নতুন ইতিহাস বানিয়ে, তাদের নেতাকে দেবতা বানিয়ে, অন্যান্যদের অবদানকে অস্বীকার করে অদ্যাবধি কুশাসন অব্যাহত রেখেছে। অথচ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় পর্যন্ত গঠন হয়েছে ২০০১ সালের ২৩ অক্টোবর বিএনপি’র শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে।
লাখ লাখ শহীদের আত্মাহুতি এবং মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার আদায়ের যে স্বাধীনতা, সেই স্বাধীনতা লাভের সাড়ে তিন বছরের মধ্যে একদলীয় বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে তথাকথিত স্বাধীনতা চেতনাধারী আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার চেতনা বিসর্জন দেন। অনেক ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে শহীদ প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করে ‘বাকশাল’ এর কবর রচনা করেন। পরবর্তীতে স্বৈরাচারী, সুবিধাবাদী শাসক এবং বিশ্ববেহায়া এরশাদ যখন বিএনপি’র আবদুস সাত্তারের সরকারকে সরিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেন, তখন একজন সম্পূর্ণ গৃহিণী হতে বিএনপির দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে এক নাগাড়ে প্রায় এক দশক বিরতিহীন সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৯০ সালে ৬ ডিসেম্বর পুনঃরায় গণতন্ত্র উদ্ধার করেন। অথচ এখনকার ফ্যাসিষ্ট প্রধানমন্ত্রী নিজেকে নিজেই ‘জাতীয় বেঈমান’ বানিয়ে স্বৈরাচারের সাথে আঁতাত করে গণতন্ত্রের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এখন আবারো আমরা আমাদের চেয়ারপার্সন, দেশনেত্রী, দেশমাতাকে সামনে রেখে আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলনে লড়ছি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন দেশনায়ক তারেক রহমানও আমাদের সুযোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ১৯ দফা ছিল সমৃদ্ধির সোপান। খাল কাটা এবং বেশীরভাগ জায়গাকে চাষাবাদের উপযোগীর মাধ্যমে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার রোডম্যাপ দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াই দিয়েছিলেন। পূর্বের দূর্নীতিবাজ শাসনের কবল থেকে উদ্ধার করে তিনি চেষ্টা করেছিলেন দুর্নীতিমুক্ত, সৎলোকের শাসন দেয়ার। তাঁর সততা পুরো বিশ্বে বিরল এবং এদেশে এখনো কিংবদন্তী হয়ে আছে। তিনিই প্রথম গার্মেন্টস শিল্পকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে শিল্পায়নে সমৃদ্ধ করার পথ উন্মোচন করেন। যে গার্মেন্টস রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে এখন তৃতীয়। তাঁর মেধা, যোগাযোগ এবং আন্তরিকতার কারণেই সৌদি-আরব এবং আরব আমিরাতে শ্রম রপ্তানি শুরু হয়। ঐ প্রবাসীদের সংখ্যা এখন প্রায় দু’কোটি। দেশের রেমিটেন্সের প্রধান উৎস এই প্রবাসীরাই। এই প্রবাসীদের কল্যাণের জন্য মন্ত্রনালয় গঠন করেন বেগম খালেদা জিয়া ২০০১ সালের ২০ ডিসেম্বর তাঁর তৃতীয় শাসনামলে।

বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিটা নেতাকর্মীর প্রতি অনুরোধ

ক) আসুন আমরা দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়ার দেশের জন্য ত্যাগ, সততা, মেধা এবং সাহস সম্পর্কে নিজেরা অবগত হই এবং অন্যদেরকে জানাই। ক্ষমতাসীন ফ্যাসিষ্টরা তাদের নেতা সম্পর্কে অজস্র মিথ্যা প্রশংসা প্রচার করে এবং সত্যটাকে গোপন করে, অথচ আমরা সত্যটাও ভালোভাবে প্রচার করছি না; যা মোটেই ঠিক নয়, প্রচারেই প্রসার। যে প্রসার আমাদের দলের জন্য এবং দেশের জন্য অপরিহার্য এবং ফলদায়ক।
খ) আসুন আমরা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সংগ্রাম, নেতৃত্ব সম্পর্কে নিজেরা ওয়াকিবহাল হই এবং অন্যদেরকেও জানাই।
গ) আসুন আমরা দলের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক এবং ফ্যাসিজম বিরোধী আন্দোলনে ত্যাগীদের স্মরণ করি, মনে রাখি এবং মূল্যায়ন করি।
ঘ) আসুন আমরা গুম-খুন হওয়া নেতাকর্মীদের পরিবারের পাশে দাঁড়াই। আর্থিকভাবে অকালে চলে যাওয়া নেতাকর্মীদের পরিবারের পাশে দাঁড়াই।
ঘ) বর্তমান ফ্যাসিবাদী রাজত্বকালে নিজের পদপদবীর কথা মাথায় না রেখে মেধা, সাহস নিয়ে আন্দোলনে সংগ্রামে দলের পাশে, দেশের পাশে দাঁড়াই।
চ) দলের সম্পর্কে, দেশের সম্পর্কে ভালোভাবেই জানার চেষ্টা করি, এবং অন্যদেরও জানাই।
চ) দলের ঐক্যকে আরো সুদৃঢ় করি।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close