নিউজ

আগামী সপ্তাহে খুলছে ইংল্যাণ্ডের সব স্কুল শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠাতে প্রধানমন্ত্রী আহবান

ফেইস মাস্ক বিষয়ে শেষ মুহূর্তে সরকারের ইউ-টার্ন
এক তৃতীয়াংশ অভিভাবক রাজী নন, পোল জরীপের তথ্য
বাচ্চাদের স্কুলে না দিলে ৬০ পাউণ্ড জরিমানা

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ২৮ আগষ্ট – প্রায় পাঁচ মাস বন্ধ পর আগামী সপ্তাহ থেকে পুনরায় খুলছে ইংল্যাণ্ডের সবগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিদ্যমান থাকাবস্থায়ই যে কোনো মূল্যে স্কুল খোলার সিদ্ধান্তে সরকারও বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, এভাবে স্কুল বন্ধ অব্যাহত রাখলে করোনার চেয়েও বেশী ক্ষতিকর হবে। কিন্তু বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাবার ব্যাপারে অভিভাবকদের মনে অজানা ভয় ও সংশয় কাজ করছে। তবে স্কুল বাদ দিলে ৬০ পাউণ্ড জরিমানা গুণতে হবে অভিভাবকদের আর তা প্রদানে দেরী করলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ১২০ পাউণ্ডে। কিন্তু আর্থিক জরিমানা সত্ত্বেও এক তৃতীয়াংশ অভিভাবক তাদের সন্তানদের স্কুলে দিতে নারাজ বলে পোল জরীপের ফলাফলে ওঠে এসেছে। পোল জরীপ সঠিক হলে অনেকেই তাই করবে। তবে তাদের প্রস্তাব যে, এক চতুর্থাংশ বা বড় একটি অংশ এমনটি না করলেও কমপক্ষে তাদের প্রচ- উদ্বেগ থাকবে। বর্তমানে মাত্র দুই তৃতীয়াংশ অভিভাবক এই মুহূর্তে তাদের সন্তানদের স্কুলে পুনরায় পাঠাতে সম্মত। কয়েক আগে করা রেডফিল্ড এ- উইল্টন পরিচালিত পোল জরীপে এই পরিসংখ্যান ওঠে এসেছে। এই মাসের শুরুতে ইউগোভের জরীপে অর্ধশতাংশেরও (৫৭) বেশী পূর্ণরূপে স্কুল খোলার পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছিলেন। আর ২৫ শতাংশের মতামত ছিলো এখনই খোলা উচিৎ নয়।
এদিকে, স্কুল শুরুর প্রক্কালেই শিক্ষার্থীদের ফেইসমাস্ক পরা না পরা নিয়ে শুরু হয়েছে দুটানা। প্রথমে ফেইসমাস্ক না পরার পক্ষে ছিলো সরকারের অবস্থান। কারণ পাবলিক হেলথ ইংল্যাণ্ডের তথ্য মতে জুন থেকে আংশিক চালু হওয়া স্কুলগুলোতে সংক্রমণের মাত্রা ছিলো খুবই অল্প। তবে ওয়াল্ড হেলথ অর্গেনাইজেশন তাদের স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় পরিবর্তন এনে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের উচ্চ সংক্রমণ স্থানে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখতে পারলে মাস্ক পরা উচিত বলে সুপারিশ প্রদান করার পর বিভিন্ন মহল থেকে তা অনুসরণ করার দাবী ওঠে। ফলে সরকারও আগের অবস্থান থেকে সরে গিয়ে হেড টিচারদের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়। তারাই সিদ্ধান্ত দেবেন কোথায় কখন মাস্ক পরতে হবে। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য ইতোমধ্যে বলেছেন, আমাদের যদি পরামর্শ পরিবর্তনের দরকার পড়ে আমরা অবশ্যই তা করবো।
স্কুল থেকে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি ‘খুবই অল্প’ উল্লেখ্য করে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, পাঁচ মাস ব্যাঘাত ঘটার পর আর যাতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পেছনে না পড়ে এবং সেটির জন্যে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব না পড়ে সেজন্য স্কুল খোলার বিষয়টি আমাদের একটি ‘নৈতিক দায়িত্ব’।
প্রধানমন্ত্রীর সাথে একমত পোষণ করে সরকারের প্রধান মেডিকেল অফিসার অধ্যাপক ক্রিস হুইটি বলছেন, শিশুরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তার চেয়ে অনেক বেশী ক্ষতি হবে শিশুরা স্কুলে না গেলে।
তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে শিশুদের মারা যাওয়ার আশঙ্কা অবিশ্বাস্য রকম কম। কিন্তু স্কুলে না যাওয়ার কারণে দীর্ঘমেয়াদে তারা শরীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতির শিকার হবে।
করোনাভাইরাস মহামারীতে ইউরোপে সবচাইতে বেশী মৃত্যুবরণকারী দেশের মধ্যে শীর্ষে বৃটেন। এখনো প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ ভাইরাসে সংক্রমিত। সরকারী হিসাবেই মারা গেছেন ৪৭ হাজারের বেশী। আর অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকসের হিসেবে প্রায় ৫৭ হাজারের বেশী মানুষ মারা গেছেন বৃটেনে যাদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে করোনা ভাইরাস উল্লেখ রয়েছে ডেথ সার্টিফিকেটে।
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে অন্যান্য দেশের মতো গত মার্চ থেকে বৃটেনের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ও পরীক্ষাসমূহ বাতিল করে দেওয়া হওয়া। পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসায় সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত হয়। ইতোমধ্যে স্কটল্যা- ও নর্দান আয়ারল্যাণ্ড স্কুলগুলোতে পাঠদান শুরু হয়েছে।
এডুকেশন সেক্রেটারি গেভিন উলিয়ামসন বলেন, শিক্ষার গুরুত্ব সবার আগে। যে কোনো কিছুর বিনিময়ে হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে হবে। অনেক শিশু স্কুলে না যাওয়ার কারণে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এছাড়া বৃটেনসহ সারা বিশ্বেই এখন একটি বিষয়ে স্পষ্ট। তা হল, শিশুরা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলেও গুরুতর অসুস্থ হচ্ছে না বা তাদের খুব একটা হাসপাতালে যেতে হচ্ছে না।
যেহেতু কোভিড-১৯ এর কোনো কার্যকর ভেকসিন এখনো হাতে পাওয়া যায়নি তাই এখন পর্যন্ত ‘ঝুঁকি মুক্ত কোনো পথ’ নেই। বৃটেনের চিকিৎসা কর্মকর্তারা তাই অভিভাবক ও শিক্ষকদের স্কুল খোলার ঝুঁকি এবং লাভ উভয়ের গুরুত্ব বোঝার পরামর্শ দিয়েছেন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close