সৌদি কেন্দ্রিক সীমিত আকারে হজ্ব, আগামী বছরের জন্য বুকিং না রাখতে চাইলে অর্থ ফেরত দেবে ব্রিটিশ-বাংলাদেশী হজ্ব এজেন্সিগুলো

নিউজ

সুরমা প্রতিবেদন
লণ্ডন, ২৬ জুন – বিশ্ব মুসলিমের সর্ববৃহৎ সম্মিলন পবিত্র হব এবার সীমিত আকারে অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বজুড়ে নতুন করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এ বছর সীমিত আকারে পবিত্র হজ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি সরকার। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। উল্লেখ্য, বিশ্ব থেকে প্রায় ২.৫ মিলিয়ন মুসলমান হজে অংশ নিয়ে থাকেন। তদস্থলে এবার কমবেশী ১ হাজার জন অংশ নিতে পারবেন।
গত ২২ জুন, সোমবার সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণায় বলা হয়, শুধু সৌদি আরবে বসবাসরতরাই এবারের হজে অংশ নিতে পারবেন। সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সৌদি প্রেস এজেন্সির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন দেশের মুসলিম যারা বর্তমানে সৌদি আরবে বসবাস করছেন ওইসব সীমিত সংখ্যক হাজিদের নিয়েই এবারের হজ অনুষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিশ্বজুড়ে করোনভাইরাসের সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে। এমনকি এখন পর্যন্ত কোনো ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক বের হয়নি। এই অবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখো হাজিদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। সে জন্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বৃটেন থেকে হজে গমনেচ্ছুদের উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ-বাংলাদেশীদের দ্বারা পরিচালিত হজ্ব এজেন্সিগুলোর সংস্থা এসোসিয়েশন অব ব্রিটিশ-বাংলাদেশী হজ এজেন্সি (আবা) এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী বছর হজে যেতে না চাইলে তাদের জামানতের অর্থ ফেরত দেয়া হবে। বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রেরিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিষয়টি সুরমাকে নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির সেক্রেটারি ও লাব্বায়েক ট্রাভেলসের স্বত্ত্বাধিকারী হিফজুর রহমান। এ সম্পর্কে তাঁর সাথে যোগাযোগ করে হলে তিনি বলেন, এয়ার টিকিট ও ভিসা ফি ফেরত পাওয়া যাবে কিন্তু হোটেল বুকিং মানি ফেরত পাওয়া অনেকটা কষ্টসাধ্য ও অনেকক্ষেত্রে কষ্টসাধ্য। তারপরও যদি কিছু ক্ষতিও হয়ে যায় তবু আমাদের সংস্থাভূক্ত হজ এজেন্সিগুলো মাধ্যমে যারা বুকিং দিয়েছেন আমরা তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর প্রায় ২৬ হাজার ব্রিটিশ মুসলিম হজ পালনে সৌদি গমন করে থাকেন। কিন্তু এবছর বুকিং থাকা সত্ত্বেও হজে যেতে পারবেন না হাজার হাজার হজ যাত্রী। সৌদি আরবের এমন সিদ্ধান্তে হজ এজেন্সিগুলো বিশাল অংকের ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তা সত্ত্বেও মহামারির কারনে সৌদি সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশী-ব্রিটিশ হজ এসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা।
পূর্ব থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল এবার হজ বাতিল হতে পারে। তাই সোমবার সৌদি হজ মিনিস্ট্রির ঘোষণার পরও হজযাত্রীরা তেমন একটা যোগাযোগ করছেন না বলে জানিয়েছেন এজেন্সিগুলোর কর্মকর্তারা।
বিবৃতিতে বাংলাদেশী-ব্রিটিশ হজ এজেন্সির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, তাদের সংগঠনের আওতাভূক্ত এজেন্সিগুলো থেকে যারা বুকিং দিয়েছেন তারা চাইলে আগামী বছরের জন্য এই বুকিং অব্যাহত রাখতে পারবেন অথবা টাকা ফেরত নিতে পারবেন। বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বময় মহামারি কোভিড-১৯ -এর কারণে সৌদি হজ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গত ২২ জুন অফিসিয়ালি নিশ্চিত করেছেন যে, ২০২০ সালে বিশ্ব মুসলিমের আকাক্সিক্ষত হজ সীমিত আকারে পালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে হজ বন্ধ থাকবে। বাহিরের কোনো দেশ থেকে কোনো মুসলিম হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গমন করতে পারবেন না।
আমরা বাংলাদেশী ব্রিটিশ হজ্ব এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনার সহিত জানাচ্ছি, এবার ২০২০ সালের পবিত্র হজে আপনাদের যাওয়া হচ্ছে না। এক্ষেত্রে হাজীগণ বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সীকে যে অর্থ প্রদান করেছেন তা আমাদের কাছে আমানতস্বরূপ। এই আমানত রক্ষার্থে আমরা বদ্ধ পরিকর।
তবে যেহেতু হজ্ব পালনের লক্ষ্যে হজ যাত্রীদের দেওয়া কমিটমেন্ট রক্ষার জন্য হজ্ব বুকিংয়ের সাথে সাথে তাদের প্রদত্ত অর্থ ফ্লাইট বুকিং, হোটেল বুকিংসহ অন্যান্যস্থানে প্রদান করা হয়ে গেছে। যেসকল হাজীগণ আগামী বছরে হজে যাওয়ার আশা করছেন শর্তসাপেক্ষে তাদের এ বছরের বুকিংকে আগামী বছরের জন্য ফরওয়ার্ড করার বিশেষ অনুরাধ জানানো যাচ্ছে। এছাড়া যেসব হজযাত্রীগণ আগামী বছরের বুকিংয়ে আগ্রহী নন আমরা আগামী ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে তাদের সমুদয় অর্থ ফেরত প্রদানের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করছি।
বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, আগামী বছর হজে গমনের খরছ বাড়বে বলে মনে করছেন এজেন্সিগুলোর কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশী-ব্রিটিশ হজ্ব এসোসিয়েশনের পক্ষে বিবৃতিতে নাম রয়েছে Ñ লাব্বায়েক ট্রাভেলস, স্কাই ভিউ ট্রাভেলস, আল কিবলা ট্রাভেলস, হলি মক্কা ট্যুরস, আল সাফা ট্রাভেলস, মদিনা ট্রাভেলস, হাসান ট্যুরস, হিজাজ ট্রাভেলস, মিলফা ট্রাভেলস, এফ ট্রাভেলস নেট, জমজম ট্রাভেলস বার্মিংহাম, বিএমটি ট্রাভেলস, ওয়ান কল, আল কবির ট্রাভেলস, মাদানী হজ্ব ট্যুরস ল-ন এবং মক্কা এক্সপ্রেসের।