৩ মাসের লকডাউনে পঙ্গু বৃটেনের অর্থনীতি, ৬ লক্ষাধিক বেকার, ৩ মিলিয়ন বেনিফিটে, জব হারানোর নতুন সুনামির আশঙ্কা

নিউজ

সুরমা প্রতিবেদন
লণ্ডন, ১৮ জুন – করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ হ্রাসের দিকে ধাবিত হওয়ায় আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে বৃটেন। গত ১৫ জুন থেকে খুলেছে ইংল্যাণ্ডের সবধরনের দোকানপাট। শুক্রবার থেকে খুলবে নদার্ন আয়ারল্যাণ্ডের দোকানপাট। এর আস্তে আস্তে খুলবে ওয়েলস ও স্কটল্যাণ্ডের দোকানপাটও। তবে প্রায় ৩ মাসের লকডাউনে অনেকটাই পঙ্গু হয়ে গেছে বৃটেনের অর্থনীতি। মার্চের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া লকডাউনে এযাবত ৬ লক্ষাধিক মানুষ কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন। অপর দিকে প্রায় ৩ মিলিয়ন মানুষকে সরকারের বেনিফিটের উপর নির্ভরশীল হতে হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এখনই এর ভয়াবহতা পুরোপুরি বোঝা না গেলেও লকডাউনের পর সরকারের নেয়া বিশেষ স্কিম ফারলো বা কাজ না করেও বেতন পাওয়ার সুবিধার মেয়াদ অক্টোবরে শেষ হওয়ার পর এর প্রকৃত ক্ষত দেখা যাবে। এদিকে, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদরা সরকারের বিশেষ সুবিধা শেষ হওয়ার পর আসন্ন মাসগুলোতে জব বা কাজ হারানোর নতুন সুনামির আশঙ্কা করছেন।

অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটেস্টিকসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মার্চ থেকে মে’র মধ্যে জবসিকার বা বেকার ভাতা ও ইউনিভার্সেল ক্রেডিড গ্রহণের পরিমাণ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। অর্থাৎ ১.৬ থেকে ২.৮ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। যদিও এসব সুবিধা খুব কম বেতনভোগি শ্রমিকরাই দাবী করে করতে পারেন। ওএনএস‘র সাম্প্রতিক এক পৃথক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, এসব দাবীদারদের বেশীরভাগের চাকুরি হারিয়েছেন। মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে বৃটেনের বেতনভোগি শ্রমিকের সংখ্যা ৬ লক্ষ ১২ হাজার হ্রাস পেয়েছে এবং যাদেরকে নতুন করে সরকারের সহায়তা নিতে হচ্ছে।
ইন্সটিটিউট ফর এমপ্লয়মেন্ট স্টাডিজ অবশ্য বছরের শুরুতেই সহয়তা লাভের হুড়োহুড়ি দেখে মহামন্দার এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলো।
করোনা ভাইরাসের কারনে এপ্রিলেই বেকারভাতা সুবিধা পাবার দাবী করেছিলো প্রায় ২১ মিলিয়ন মানুষ। বেকারভাতা পাওয়ার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষিতে একই আশঙ্কা ব্যক্ত করেছিলেন চ্যান্সেলর ঋষি সুনাক। তিনি বলেছিলেন যে, বৃটেন এমন এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি। একই সাথে তিনি খুব তাড়াতাড়ি অর্থনীতি আগের অবস্থায় ফিরতে পারবে না বলেও সংশয় প্রকাশ করেছিলেন।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে যে, চাকুরী ধরে রাখার সরকারের বিশেষ উদ্যোগ ফারলো স্কিমের আওতায় ৯.১ মিলিয়ন জব ধরতে রাখতে গিয়ে সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০.৮ বিলিয়ন পাউণ্ড।
এইচএম রিভিন্যু এণ্ড কাস্টমসের পরিসংখ্যান সূত্রে আরও জানানো হয়েছে যে, সেলফ-এমপ্লয়েড ২.৬ মিলিয়ন কর্মীদের সহায়তা দিতে গিয়ে পৃথক প্রকল্পের আওতায় সরকারের ব্যয় হয়েছে আরো ৭.৬ বিলিয়ন পাউণ্ড। এভাবে ৪০ শতাংশ বেসরকারি খাতের শ্রমিকসহ মোট ১১.৭ মিলিয়ন শ্রমিকদের ব্যয় রাষ্ট্রের রাজস্ব থেকে বহন করতে হয়েছে। জব রিটেনশন স্কিম বা চাকুরি ধরে রাখার প্রকল্পের আওতায় তাদেরকে বেতনের ৮০ শতাংশ হিসেবে প্রতি মাসে ২,৫০০ পাউ- পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে ফারলো বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে।
তবে আগস্টেও শুরু থেকেই এটি ধীরে ধীরে ক্ষতস্থানে পরিণত হবে কারন আগেই বলে রাখা অক্টোবরে শেষের দিকে এই স্কিম বন্ধ হওয়ার আগে ব্যবসায়ীদের তাদের ফারলোকৃত কর্মচারীদের ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স এণ্ড পেনশন প্রদান করতে হবে।