নিউজ

আই কান্ট ব্রেথ: আমি শ্বাস নিতে পারছি না

সুরমার সম্পাদকীয় ।। ২১৫৩ সংখ‍্যা

‘আই কান্ট ব্রেথ: আমি শ্বাস নিতে পারছি না’ — এ কথাটা জর্জ ফ্লয়েডের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনেপোলিস শহরের বাসিন্দা জর্জ ফ্লয়েড’র নাম এখন এশিয়া-আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার মানুষের মুখে মুখে। শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসারের হাঁটুর নিচে চেপে পড়ে থেকে ফ্লয়েড চিৎকার করে বলছেন, ‘আই কান্ট ব্রেথ’ — আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।

ঘটনা সংঘটিত হয়েছে ২৫ মে ২০২০। মিনেপোলিসের এক দোকানী পুলিশকে জানায়, একজন তার দোকানে সিগারেটের দাম হিসেবে ২০ ডলারের একটি জাল নোট দিয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ এসে জর্জ ফ্লয়েডকে হাতকড়া পরিয়ে ধরে নিয়ে যায়। পুলিশ তাকে থানায় না নিয়ে রাস্তায় ফেলে হাঁটু দিয়ে তাঁর গলা চেপে ধরে। এক সময় জর্জ ফ্লয়েড নিস্তেজ হয়ে পড়েন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের মানুষ এর প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে। লন্ডনসহ পৃথিবীর বহু দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে এর নিন্দা জানাচ্ছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পোরেননি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ এ হত্যাকান্ডের প্রেতিবাদ করছে। কারফিউ অমান্য করেও বিক্ষোভ চলছে। মিনেসোটায় একটি পুলিশ স্টেশনসহ অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করা হয়েছে। বিক্ষুব্ধ মানুষ জ্বালিয়ে দিয়েছে দোকান-পাট ও স্থাপনা।
জাল নোটের কাহিনী সত্য হতে পারে, মিথ্যাও হতে পারে। জাল নোটটি অন্য কেউ জর্জ ফ্লয়েডকে দেয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। জাল নোট ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ ব্যবহার করলে সেটা ফৌজদারী অপরাধ। জর্জ ফ্লয়েড সেটা করেছেনে কি না তা আমরা জানি না। তবে পৃথিবীর কোথাও জাল নোট ব্যবহারের শাস্তি মৃত্যুদ- নয়। মৃত্যুদন্ড হলেও তা কার্যকরী করা কোনো পুলিশ অফিসারের দায়িত্ব নয়। তাই এটা যে বর্ণবাদী হত্যা তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
হত্যার দায়ে অভিযুক্ত শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার ডেরেকের স্ত্রী কেলি এ নির্মম হত্যাকান্ডে এতোই ক্ষুব্ধ হয়েছেন যে ঘটনার প্রতিবাদে তিনি ডেরেকের বিরুদ্ধে ডিভোর্স মামলা করে দিয়েছেন। ফ্লোরিডার মায়ামিতে ঘটেছে ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা। মায়ামি পুলিশ হেডকোয়ার্টার অভিমুখে যখন বিক্ষোভকারীরা যায়, তখন পুলিশ টিয়ারগ্যাস দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা বা কোনো প্রকার শক্তি প্রয়োগ করেনি। তারা বরং হাঁটু গেড়ে বসে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ক্ষমা চায়। পুলিশের আচরণে বিক্ষোভকারীরা বিমোহিত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে।
বর্ণবাদের বিরুদ্ধে চলমান বিশ্বব্যাপী আন্দোলনের প্রতি বিশ্ব-বিবেকের অকুন্ঠ সমর্থন রয়েছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বর্ণবাদের আক্রমণে বিশ্ব মানবতা বার বার নিহত হচ্ছে। একুশ শতকের পৃথিবীতে বাস করেও জর্জ ফ্লয়েডের মতো আমাদের বার বার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। আমাদের অবশ্যই সাহসিকতার সাথে সম্মিলিত ও অব্যাহত লড়াইয়ের মাধ্যমে বর্ণবাদের জড় উপড়ে ফেলতে হবে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close