নিউজ

বৈশ্বিক মহামারী এবং আর্থ-রাজনৈতিক পরিবেশ

সুরমার সম্পাদকীয় মতামত: ইস‍্যু ২১৫২
করোনা মহামারী এশিয়া পার হয়ে ইউরোপ ও আমেরিকায় ছড়িয়ে যাওয়ার পর বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। বলতে গেলে বৈশ্বিক অর্থনীতি কঠিন এক অন্ধকারাচ্ছন্ন পথে ধাবিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টার পরও ভি-আকারের এক-পঞ্চমাংশ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে। আগের বছরের তুলনায় অর্থনৈতিক মন্দা আরো গভীর হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবন কঠিন থেকে কঠিনতর হবে। দ্যা ইকোনমিস্ট-এর ভাষ্য মতে অর্থনীতির মতো রাজনীতির উপরও নাক গলাচ্ছে কোবিড-১৯। মহামারী মোকাবেলা করতে গিয়ে সকল সরকার প্রধানই হিমশিম খাচ্ছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় কারো জনপ্রিয়তা বাড়ছে এবং অনেকের জনপ্রিয়তা কমছে।
বিশ্বের সকল দেশ এখন করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত হিসাব নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। কতজন আক্রান্ত হয়েছে, কত জন মারা গেছে এবং কে কি ভাবে তা মোকাবেলা করছে – এটাই বিশ্বের প্রতিটি দেশের প্রধান খবর। ইতোমধ্যে গতসপ্তাহে করোনা আক্রান্ত বাংলাদেশ এবং ভারতে ঘুর্ণিঝড় আম্পান হানা দেয়। এর উপকূলীয় অঞ্চলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এটা অনেকটা মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
করোনা মহামারী শুরু হবার পর যে সব দেশে সাফল্যের সাথে মোকাবেলা করেছে সে সব দেশের রাষ্ট্রনায়করা জনগণের বাহবা পাচ্ছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন এবং জার্মানীর চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মার্কেলের জনপ্রিয়তা অনেক নিচে নেমে এসেছিল। করোনা ভাইরাস আবির্ভাবের পর তাদের অবস্থা বদলে গেছে। করোনা ভাইরাসে ইতালীতে যে পরিমান মানুষ মৃত্যু বরণ করেছে সে তুলনায় জার্মানীর মৃত্যুহার এক চতুর্থাংশ। অথচ জার্মানীর জনসংখ্যা ইতালীর চেয়ে অনেক বেশি। করোনা আবির্ভাবের পূর্বে এঙ্গেলা মার্কেলের জনপ্রিয়তা ছিল ৫৩ শতাংশ এবং মে মাসে তার জনপ্রিয়তা ৬৮ শতাংশে এসে পৌঁছেছে। নিউজিল্যা-ের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন ভাইরাস ঠেকাতে মার্চ মাস থেকেই কঠোর পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেন। এর ফলে সেখানে করোনা ভাইরাস অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। এতে জেসিন্ডার পক্ষে জনপ্রিয়তার জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যার বিচারে বৃটেন বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় হয়েও বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। অনেকের মতে করোনা মোকাবেলায় সাফল্য দেখাতে না পারলেও নিজে করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি বৃটিশ জনগণের অনুকম্পা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। গ্যাড়াকলে পড়েছেন রাশিয়ার লৌহ মানব পুতিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলতে গেলে তাদের জনপ্রিয়তায় ধ্বস নেমেছে।
ভারতের নরেন্দ্র মোদী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী – এ দুজনই বাক্যবাগীশ। করোনা আক্রমণ মোকাবেলায় হিমশিম খেলেও বশংবদ মিডিয়ার কারণে তারা তাদের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পেরেছেন। তবে বাংলাদেশের মানুষ করোনা-সংকট মোকাবেলায় সরকারী দল এবং সরকারী কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। তাদের সেবার মান এবং সংকট মোকাবেলার ব্যাপারে সক্ষমতা ও দক্ষতা নিয়ে হাজারো প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস এখনো তুঙ্গে ওঠেনি। প্রতিদিন সেখানে মৃত্যু ও সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে। তাই শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা থেকে আগামী দিনে তাঁর দল কতটুকু ফায়দা নিতে সক্ষম হবে সে প্রশ্নের জবাব এক্ষুণি পাওয়া সম্ভব নয়।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close