করোনার বিস্তার রোধে অবশেষে বৃটেনে জরুরী অবস্থা ঘোষণা

নিউজ

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ২৪ মার্চ – করোনাভাইরাসের বিস্তৃতি রোধে কঠিন পদক্ষেপ নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। সপ্তাহের সূচনা দিন, ২২ মার্চ, সোমবার জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘর থেকে বের না হওয়ার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। কেউ প্রধানমন্তীর এই ঘোষণা অমান্য করলে তাকে জরিমানা গুণতে হবে। নতুন পদক্ষেপ ঘোষণার সাথে সাথে ব্যস্ত লণ্ডন মুহূর্তেই প্রায় জনশূন্য হয়ে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমন কঠিন সময়ের সম্মুখীন হলো বৃটেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর জরুরী প্রয়োজন ব্যাতীত দুই জনের বেশী লোককে একসাথে রাস্তায় ঘোরাঘুরি করতে দেখলে পুলিশ তাদের আটক ও জরিমানা করতে পারবে। বৃটেন এমন সময় জরুরী অবস্থা ঘোষণা করলো যখন দেশটি ইতালির ভয়াবহতা থেকে মাত্র ২/১ সপ্তাহ পিছিয়ে রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। আপাতত ৩ সপ্তাহের জন্য ঘোষিত জরুরী অবস্থাকালীন একসাথে দুই জনের অধিক লোক কোথাও জড়ো হতে পারবেন না। জরুরী চিকিৎসাসেবা, খাদ্য সংগ্রহ ও শরীর চর্চার উদ্দেশ্যে নিকটস্থ পার্কে একবার বের হওয়ার অনুমতি রয়েছে।
উল্লেখ্য, এই বিশেষ ঘোষণার আগে গত ১৮ মার্চ, বুধবার বৃটেনের সব স্কুল, কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণাসহ জিসিএসই ও এ লেভেল পরীক্ষা ঘোষণা করা হয়। অত:পর জিম, পাব ক্যাফে ও রেস্টুরেন্ট বন্ধ ঘোষণা করে ৩৫০ পাউণ্ডের সহায়তা ফাণ্ড ঘোষণাসহ প্রায় নিয়মিত প্রেসকনফারেন্সের মাধ্যমে করোনার সর্বশেষ পরিস্থিতি ও করণীয় সম্পর্কে অবহিত করে আসছে ১০ নাম্বার ডাউনিং স্ট্রিট।

জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া নাটকীয় ও ঐতিহাসিক টিভি ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ঘেষণা করেন যে, খাবার ও ওষুধের দোকান ছাড়া সমস্ত দোকান তৎক্ষণাৎ বন্ধ করতে হবে। দিনে মাত্র একবার শরীর চর্চা ছাড়া ঘর থেকে বের হবার অনুমতি দেওয়া হবে না।
করোনার ভয়াবহ বিস্তার রোধে সবার সহযোগিতা জাতির উদ্দেশ্য দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জরুরী প্রয়োজন ছাড়া দয়া করে কেউ ঘরে অবস্থান করেন। দিনে একবার শুধু এক্সারসাইজের উদ্দেশ্য একা বা পরিবারের কারো সাথে নিকটস্থ পার্ক বা খোলা জায়গায় বের হওয়া যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সবাইকে মিলেই এ ভাইরাস মোকাবেলা করতে হবে। একই পরিবারের অনেক সদস্য যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হোন সেক্ষেত্রে এনএইচএস কর্মীদের পক্ষে সম্ভব হবে না সকলকে চিকিৎসা দেয়া । তাই আমাদের সকলের উচিত এনএইচএসকে সহযোগীতা করা ও তাদের উপর চাপ কমিয়ে আনা।
সবাইকে নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমারা সবাই মিলে যদি একত্রে কাজ করি তাহলে খুব দ্রুতই এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবো।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর জরুরী পণ্যসামগ্রী ব্যতীত সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে। সীমিত সংখ্যক নিকটাত্মীয়ের উপস্হিতিতে ফিউনারেল ব্যতিত বিবাহ ও যে কোনো ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে।