নিউজ

আপিল কোর্টের রায়: মুসলিম বিয়ে ব্রিটিশ আইনসম্মত নয়

লণ্ডন, ২০ ফেব্রুয়ারী – মুসলিম বিয়ে ব্রিটিশ আইনে স্বীকৃত নয় বলে রায় দিয়েছে বৃটেনের আদালত। গত ১৪ ফেব্রæয়ারী দেয়া এক রায়ে কোর্ট অব আপিল বলেছে, আইনের আশ্রয় নিয়ে ডিভোর্স দিতে হলে অবশ্যই আইন মেনে সেই বিয়ে নিবন্ধন হতে হবে। বিয়ের নিবন্ধন ব্রিটিশ আইন মেনে না হয়ে থাকলে বৃটেনের আইনে সে বিয়ে স্বীকৃতি থাকবে না। ফলে ওই রকম সম্পর্কের ?বিচ্ছেদের ক্ষেত্রেও আদালত সিদ্ধান্ত দিতে পারে না।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যের হাইকোর্ট মুসলিম বিয়েকে যুক্তরাজ্যের আইনের দৃষ্টিতে বৈধ বলে রায় দিয়েছিলো। কোর্ট অব আপিলের রায়ের ফলে হাইকোর্টের দেয়া সেই রায় বাজেয়াপ্ত হয়ে গেল। নাসরিন আক্তার এবং মোহাম্মদ শাবাজ খান দম্পতির ডিভোর্স প্রক্রিয়াকে ঘিরে এই মামলার সূত্রপাত। ১৯৯৮ সালে ওয়েস্ট লন্ডনের একটি রেস্টুরেন্টে ইসলামিক শরীয়া মোতাবেক এই দম্পতির বিয়ে হয়। প্রায় দেড় শতাধিক অতিথির উপস্থিতিতে একজন ইমাম এই বিয়ে সম্পন্ন করেন। এই দম্পতির চারজন সন্তান রয়েছে। দাম্পত্য কলহের জের ধরে ২০১৬ সাল থেকে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকছেন। এক পর্যায়ে স্ত্রী নাসরিন আক্তার স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্সের জন্য আইনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। কিন্তু স্বামী মোহাম্মদ শাবাজ খান আদালতে যুক্ত দেখান বৃটেনের আইন মেনে তাদের বিয়ে হয়নি। ফলে এই বিয়ের আইনসম্মত বিচ্ছেদের কোনো প্রশ্নই আসে না। নাসরিন আক্তার দাবি করেন তিনি ইংলিশ আইনে বিয়ে রেজিট্রি করার চেষ্টা কররেও তা আর হয়ে উঠেনি।

তবে ২০১৮ সালে দেয়া রায়ে হাইকোর্টের বিচারক এই বিয়েকে আইনসম্মত বলে রায় দেন। বিচারক বলেন, ১৯৭৩ সালের ম্যাট্রিমোনিয়াল কসেস অ্যাক্ট অনুযায়ী স্বামী-স্ত্রীর যেরুপ সম্পর্ক ও দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে, এই দম্পতিও সেরুপ লক্ষ্য ও দায়িত্ব নিয়েই একসাথে সংসার করেছেন। সমাজে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই পরিচিত হয়েছেন। ফলে ইসলামিক শরীয়া মেনে যে বিয়ে হয়েছে আইনের দৃষ্টিতে তা বৈধ। ডিভোর্সের জন্য তাঁরা ব্রিটিশ আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন।

হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে কোর্ট অব আপিলে আবেদন করে বৃটেনের র অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রায় দিয়েছে কোর্ট অব আপিল।

কোর্ট অব আপিলের রায়ে বলা হয়েছে, নাসরিন আক্তার এবং মোহাম্মদ শাবাজ খাননের বিয়ে ইংলিশ আইন অনুযায়ী স্বীকৃত নয়। আইনের দৃষ্টিতে গণ্য হয় না এমন এক আনুষ্ঠানিকতায় তাঁদের বিয়ে সম্মন্ন হয়েছে। বিয়ের জন্য অনুমোদিত কোনো ভবনে এ বিয়ে হয়নি। এ বিয়ের আইনসম্মত কোনো সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়নি। বিয়েতে কোনো আইনগত রেজিট্রারও উপস্থিত ছিলেন না। আইনে যে বিয়ে বৈধ বলে স্বীকৃত নয়, সে বিয়ের বিচ্ছেদ বিষয়ে আদালত কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারে না।

নারীদের নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংগঠন সাউথহল বø্যাক সিস্টার্সের প্লাগনা পাটেল এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বৃটেনে মুসলিম নারীরা এমনিতেই শরীয়া আইনের ভুক্তভোগী। শরীয়া আইনে বিয়ে করা নারীরা ব্রিটিশ আদালতে সুরক্ষা না পেলে তারা আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিচার প্রক্রিয়া থেকে তাঁদের দূরে সরিয়ে দেয়া হলে দাম্পত্য জীবনে ভুক্তভোগী নারীরা আরও বেশি করে বিতর্কিত শরীয়া আইনের দিকে ঝঁকবে। এ পরিস্থিতি মুসলিম সমাজে সংকট বাড়াবে।  ২০১৭ সালে শরীয়া আইন বিষয়ে সরকারী এক পর্যালোচনা চালানো হয়। সে সময় মুসলিম দম্পতিদের ইংলিশ আইনে বিয়ে রেজিট্রেশন করার পরামর্শ দেয়া হয়। যাতে তাঁরা দাম্পত্য কহল ঘটলে আইনী সুরক্ষা পেতে পারেন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close