নিউজ

‘এন্টি-টেরর ল’ পরিবর্তন ও কঠোর হচ্চেছ, সন্ত্রাসীদের মাঝপথে মুক্তি রুদ্ধ, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কা

সুরমা প্রতিবেদন
লণ্ডন, ৬ ফেব্রুয়ারী – পরপর দুটি সন্ত্রাসী ঘটনার পর ব্রিটিশ সরকার এন্টি-টেরর ল বা সন্ত্রাস দমন আইনে ব্যাপক পরিবর্তন ও কঠোরতা আরোপের পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছে। সম্প্রতি স্ট্রেথাম ও লণ্ডন ব্রিজে সংঘটিত সন্ত্রাসী আক্রমণের পর ব্রিটিশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী কমিটিতে বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের দীর্ঘমেয়াদী সাজাসহ মাঝপথে ছাড়া পাবার যে সুযোগ রয়েছে তা আর থাকবে না। উল্লেখ্য, চলমান আাইন অনুযায়ী সাজা প্রাপ্ত কোনো সন্ত্রাসী তার সাজাভোগের দুই তৃতীয়াংশ ভোগ করার পর মুক্তি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন পরিকল্পনা কার্যকর হলে তা আর থাকবে না।

গত ২ ফেব্রুয়ারী, রোববার স্ট্রেথাম হাই স্ট্রিটে কয়েকদিন আগে জেল থেকে মাঝপথে মুক্তি প্রাপ্ত এক সন্ত্রাসী কর্তৃক দুজনকে ছুরিকাঘাতের ঘটনার জাস্টিস সেক্রেটারি পার্লামেন্টে রবার্ট বাকল্যাণ্ড এন্টি-টেরর আইনে পরিবর্তন আনার সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান। পরিবর্তিত আইনে বর্তমান এবং ভবিষ্যত উভয় সময়ের সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে উল্লেখ করে জাস্টিস সেক্রেটারি বলেন, সরকারের পরিকল্পনার আওতায় সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত অপরাধীরা তাদের সাজাভোগের দুই-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর তখনই কেবল মুক্ত হতে পারবে যদি তাতে প্যারোল বোর্ডের অনুমোদন থাকে, অন্যথায় নয়। তিনি বলেন, আমরা এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারি না যে, একজন চি?িত অপরাধী প্যারোল বোর্ডের কোনো ধরণের তদারকি ব্যতিত অটোমেটিক বা স্বংক্রিয় আইনের আওতায় ছাড়া পেয়ে নিরীহ জনসাধারণের জন্য মারাত“ক বিপদের কারণ হবে। এছাড়া সন্ত্রাসবাদী অপরাধের জন্য বর্তমান আইনে দেওয়া সর্বাধিক শাস্তি তাদের জন্য যথেষ্ট কিনা তা পর্যালোচনা করে উগ্রবাদীদের আরো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের বিষয় বিবেচনা করছে সরকার।

তবে নতুন করে সরকারের এন্টি-টেরর আইনে ব্যাপক পরিবর্তন ও কঠোরতা আরোপের ঘোষণায় বিভিন্ন মহল থেকে মানবাধিকার উপেক্ষার আশঙ্কাও প্রকাশ পেয়েছে। সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত আইনের সরকারের সাবেক ইনডিপেণ্ডেন্ট পর্যালোচক লর্ড কার্লাইল বলেছেন বিবিসিকে বলেছেন, বিষয়টি অনেকদূর এগিয়ে গেছে। সাজা দীর্ঘায়িত করার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে দণ্ডিত হওয়া এবং অর্ধেক সাজা ভোগের আশায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। বিষয়টি অবশ্যই চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে উল্লেখ করেন তিনি বলেন, যে কোনো ঘটনায় সাজা দীর্ঘায়িত করে সমস্যার সমাধান হত পারে না। সেই ব্যক্তিদের কোনো এক পর্যায়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। লর্ড কারলাইল আরো বলেন, মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীদের উপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ তৈরী করার আহবান ২০১১ সালের কোয়ালিশন সরকারের কর্তৃক বাতিলকৃত কন্ট্রোল অর্ডারগুলোর পুনর্বতনের সমান।

বার কাউন্সিলের চেয়ার, আমাণ্ডা পিন্টু কিউসি বলেছেন, এধরনের সংস্কার, যেটি আইনের শাসনের সাথে সামাঞ্জস্য কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য সাবধনতার সাথে বিবেচনার বিষয় হওয়া উচিৎ।

এদিকে, গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, স্ট্রেথাম ও লণ্ডন ব্রিজে সন্ত্রাসী?হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাসীদের সাজা প্রদানের জন্য জরুরীভিত্তিতে আইনের পরিবর্তন ও প্রয়োগের যে পরিকল্পনা করছে সরকার তাতে ইউরোপিয়ান কনভেনশন অন হিউম্যান রাইটস (ইসিএইচআর) থেকে বৃটেন সাময়িকভাবে পৃথক করতে পারে। ৫ ফেব্রুয়ারী, মঙ্গলবার সরকারের মুখপাত্র নতুন আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ইসিএইচআর বা ইউরোপিয়ান মানবাধিকার আইনের অবমাননার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, নতুন আইনটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চালু করা যেতে পারে।

উল্লেখ্য, উগ্রবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৬ বছরের সাজা প্রাপ্ত উসমান খান মাঝপথে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে গত বছরের ২৯ নভেম্বর লণ্ডন ব্রিজে সন্ত্রাসী আক্রমণে দুই জনের প্রাণহানী ঘটে এবং আরো ৫ জন আহত হন। এই ঘটনার মাস দুয়েক যেতে না যেতেই প্যারোলে মুক্তি পাওয়া সুদেশ আম্মান নামক আরেক সন্ত্রাসী গত ২ ফেব্রুয়ারী, রোববার নিরীহ সাধারণ মানুষের উপর ছুরি নিয়ে চড়াও হয়। এতে কোনো প্রাণহানী না হলেও কয়েকজনকে আহত করে তম্মধ্যে একজন মারাত“কভাবে আহত হয়েছেন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close