সম্পাদকীয়

ট্রাম্পের ডিল অব দ‍্যা সেঞ্চুরি বানরের পিঠাভাগ ছাড়া আর কিছু নয়

সুরমার সম্পাদকীয়
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি বলে কথিত পরিকল্পনা ইসরাইল রাষ্ট্রকে আরো সম্প্রসারিত করার নতুন এক কৌশল। মুসলিম বিশ্বের কেউ এটা মেনে নিবে না। ফিলিস্তিনি জনগণ ইতোমধ্যে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইরান ও তুরস্ক এর কড়া সমালোচনা করেছে। মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দের মধ্যে যারা আমেরিকার পা-চাটা গোলাম তারা ছাড়া কোনো রাষ্ট্রনেতা এ প্রস্তাব সমর্থন করবেন বলে মনে হয় না।

ট্রাম্পের ডিল অব দ্য সেঞ্চুরির সত্যিকার উদ্দেশ্য হচ্ছে ফিলিস্তিনে ইসরাইলী দখলদারিত্বকে বৈধতা দিয়ে জোরে-বলে-কৌশলে এর পক্ষে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায় করে নেয়া। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বক্তব্য থেকেও এর আভাস পাওয়া যায়। ট্রাম্পের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত নেতানিয়াহু সেখানে উৎফুল্লচিত্তে বলেন, ‘ফিলিস্তিনি ভূখন্ডের বিশাল অংশের ওপর ইসরাইলী সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি রয়েছে ট্রাম্পের পরিকল্পনায়। আর সেখানে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের নিশ্চয়তা রয়েছে।’ ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে জোর সমর্থন দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘ইসরাইলীর জন্যে এটা এক বিশাল পরিকল্পনা। শান্তির জন্যে একটা চমৎকার পরিকল্পনা।’
ট্রাম্পের পরিকল্পনার উদ্দেশ্য স্পষ্ট হলেও তাঁর প্রদত্ত বক্তব্যের অস্পষ্টতা ও অসঙ্গতি পৃথিবীর কারো কাছে অস্পষ্ট নয়। জেরুসালেম ইসরাইলের রাজধানী বলার সাথে সাথে তিনি বলেছেন শহরের পশ্চিমাংশ ফিলিস্তিনিদের সম্ভাব্য রাজধানী হতে পারে। অধিকৃত ফিলিস্তিনে ইসরাইলের অবৈধ বসতিকে স্বীকৃতির কথা সে পরিকল্পনার অংশ হলেও এর সীমানা নির্দিষ্ট করা হয়নি। সম্ভাব্য ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের পরিধি দ্বিগুণ হওয়ার কথা উল্লেখিত হলেও এলাকা নির্দিষ্ট করে কোনো কথা সেখানে নেই। ফিলিস্তিনি জনতা ও মুসলিম বিশ্ব তাই ট্রাম্প-উপস্থাপিত অস্পষ্ট রূপরেখা একটা নতুন ভাওতা হিসেবে দেখবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।
ফিলিস্তিন হাজার হাজার বছরের পুরাতন জনপদ। হাজার হাজার বছর থেকে ফিলিস্তিনি জনগণ সেখানে বাস করছে। জেরুসালেমের মালিকও ফিলিস্তিনি জনগণ। মুসলিম শাসনামলে মুসলমান ও ইহুদিরা এ অঞ্চলে শান্তির সাথে বসবাস করেছেন। ইউরোপে ইহুদিদের উপর অকথ্য নির্যাতন হয়েছে, কিন্তু মুসলমানরা ইহুদিদের জীবন, সম্পদ ও সম্মানকে রক্ষা করেছে। হিটলারের দায় মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দিয়ে প্রায় ৭০ বছর যাবৎ ফিলিস্তিনে চলছে জবর দখল, হত্যা ও নির্যাতন। লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনিকে উদ্বাস্তু বানিয়ে সেখানে পাশ্চাত্যের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত ইসরাইল রাষ্ট্রটি সন্ত্রাস ও জবর দখলের প্রতীক হিসেবে বিশ্বের সুশীল সমাজের কাছে চিহ্নিত হয়ে আছে। ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর বৃহৎ শক্তির পক্ষ থেকে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার বার বার দেয়া হয়েছে। বৃহত্তর ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠার নতুন অঙ্গীকারও আরেকটি ধোকাবাজী মাত্র। এ কারণে ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে কেউ স্বাগতঃ জানায়নি। বরং ফিলিস্তিনসহ পৃথিবীর দেশে দেশে এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
মুসলিম বিশ্বের কাছে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বানরের পিঠাভাগ ছাড়া আর কিছু নয়। কোনো একটা জনবসতিকে জোর পূর্বক উচ্ছেদ করে তা দখল করে নিলেই জবরদখলকারীরা সে এলাকার মালিক হয়ে যায় না। মার্কিন সহযোগিতায় এবং পাশ্চাত্যের সহযোগিতায় ইসরাইল পুরো ফিলিস্তিন ভূখন্ড দখল করে নিলেও জবরদখলকারী হিসেবে বিশ্বের ইতিহাসে তারা চিহ্নিত হয়ে থাকবে। আমরা আশাবাদী, ফিলিস্তিনি জনগণ এবং মুসলিম বিশ্ব জেরুজালেমের উপর তাদের অধিকার যেভাবেই হোক অক্ষুন্ন রাখবে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close