পরদেশী সালমান এবং স্বদেশী বাজিকরদের সতীত্বের উপাখ্যান

ফটো ফিচার

মন্তব‍্যকথা:
।। মিনার রশীদ ।।

লেখক: সংবাদ বিশ্লেষক

কলির কাল শুরু হয়ে গেছে। আগে যে চটকদার কথা বলে নায়িকা বা গায়িকারা ভক্তদের মাথা ঘুরিয়ে দিতেন সেই একই ডায়ালগ এখন শোনা যাচ্ছে নায়ক এবং গায়কদের কণ্ঠে বোম্বে সিনেমার নায়ক সালমান খান দাবি করেছেন যে তিনি এখনো ভার্জিন বা সতী! নিজের সতীত্বের (?) এই ঢোলটি অন্যের হাতে না দিয়ে বুদ্ধিমানের মত তিনি নিজেই পিটিয়েছেন। কয়েক দিন আগে বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে আমাদের ঢোলের পর্দাটি প্রায় ফাটিয়ে ফেলেছিলেন। তাঁর মুখে প্রধানমন্ত্রীর ভেতর এবং বাইরের সৌন্দর্যের বর্ণনা শুনে প্রমাদ গুণে সারা জাতি। একই ধরণের ব্যঞ্জনা নিয়ে যেহেতু পুংলিঙ্গে এই শব্দটি নেই কাজেই সার্বজনীন ব্যবহার মন্দ হবে না। ‘সতী নারী চিনিবার উপায়’ শিরোনামের একটি চটি বই বাস, ট্রাম, স্টীমারে যাত্রার সময়ে হকারদের হাতে আমাদের ছোটবেলায় প্রায়ই দেখতে পেতাম। যুগে যুগে এই গবেষণার জন্যে পুরুষতন্ত্রের মোট বিনিয়োগ খুব একটা কম হয় নাই। যে ছেলেটি বক্তৃতা বিবৃতিতে মুখে উদারতার খই ফুটাতো, অসংখ্য মেয়ে বন্ধু নিয়ে ঘুরে বেড়াতো বিয়ের আগে সেই ছেলেটিও এই ধরণের একটি বই  গোপনে কিনে ফেলত। উল্টো দিক থেকে তসলিমা নাসরীন সবকিছুর প্রতিশোধ নিতে চাইলেও ‘সতী পুরুষ চিনিবার উপায়’ নামে কোনো বই দয়া করে লিখেন নাই। যদিও কয়েকজন মহা পুরুষের সতীত্বের বেলুন তিনি ফুটিয়ে দিয়ে বিপুল পরিমাণে বিনোদনের ব্যবস্থা করেছিলেন। মরহুম এক মহাপুরুষ সম্ভবত ২০ কোটি টাকার মানহানির মামলাও করেছিলেন! তসলিমা নাসরীন পুরুষদের নিয়ে এই গবেষণাটি  না করলেও দেশের সুশীলরা  রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন, দুদক — এদের  নিয়ে এই গবেষণাটি সেরে ফেলেছেন। সুরত দেখা মাত্রই এই সুশীল সমাজ বলে দিতে পারবে কে সতী আর কে অসতী। চারদলীয় জোট সরকারের সময় পান থেকে চুন খসলেই ইনারা চিল্লায়ে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে ফেলতেন। এখন পুরো বিল্ডিং খসে পড়লেও ইনাদের মুখে কোনো রা নেই।

আওয়ামী লীগ এদেশের রাজনীতির সালমান খাঁন। জামায়াত, হেফাজতে ইসলামকে গার্লফ্রেণ্ড বানালেও এদের ভার্জিনিটির কোনো ক্ষতি হয় না। সেই একই গণমাধ্যম এবং তাদের সৃষ্ট সুশীল সমাজ পরের তিন তিনটি নির্বাচন কমিশনের  সমস্ত কর্মকাণ্ড দেখার পরেও সতী বলে মেনে নিয়েছেন। বিচারপতি এমএ আজিজের সময় যেভাবে ফতোয়ার বান নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন সেই জজবার হাজার ভাগের একভাগ দেখা যাচ্ছে না। ২০০৬ /২০০৭ সালের দিকে বিচারপতি এম এ আজিজ যখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার হলেন তখন দেশের প্রায় সকল গণমাধ্যম এবং  সুশীলগণ  উনার সুরত দেখামাত্রই ‘অসতী’ বলে সাব্যস্ত করে বসলেন। ঐ বেচারাকে নিজের ভার্জিনিটি টেষ্টের সুযোগটি পর্যন্ত দিলেন না এদেশের রাজনীতির ‘গুডিবয়’ আওয়ামী লীগ এবং তাদেরই একান্ত সুশীল লীগ। সেই সব সুশীল কবিরাজ (যারা রাষ্ট্রীয় রোগের ডাক্তার হিসাবে নিজেদের দেখাতেন) যারা বিচারপতি এম এ আজিজকে দেখা মাত্রই ফতোয়া জারি করেছিলেন এবং এখন কথিত ভার্জিনিটির ভেতরে সদরঘাট সৃষ্টি করলেও সম্পূর্ণ শীতনিদ্রায় চলে গেছেন। অথচ বিচারপতি এম এ আজিজের কর্মকালীন সময়ে কোনো অসাধুতা বা নিরপেক্ষহীনতার কোনো উদাহরণ ছিল না।

স্বল্পভাষী এই বিচারপতি অন্যদের মত বাকপটু ছিলেন না। মনের কথা, ক্ষোভ বা ক্রোধ সহজেই চেহারায় ফুটে উঠত। এই সুশীলদের প্রচেষ্টায় পরবর্তিতে যে তিনজন অতি ‘সতী’ নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে তাদের কর্মকাণ্ডের দিকে তাকালেই এই কবিরাজদের মতলবটি স্পষ্ট হবে। এক এগারোর জরুরি সরকার সামসুল হুদার নেতৃত্বে যে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছিল সেই ‘সতী’ কমিশনের মূল কাজ ছিল একটি রাজনৈতিক দলকে (বিএনপিকে) খণ্ড-বিখণ্ড করা। কোনোরূপ লজ্জা শরম ব্যতিরেকে এই কাজটি প্রকাশ্যে করে গেছে সামসুল হুদা কমিশন! সেই সতী কমিশনের এক সুশীল এখনো মিডিয়াতে গলাবাজি করেন। এদের বিবেক ও লজ্জা বলতে কিছু নেই। জাতির বর্তমান দুর্ভাগ্যে এদের সরাসরি অংশগ্রহণ রয়েছে।

২০০৮ সালের নির্বাচন সম্পর্কে লণ্ডন থেকে প্রকাশিত দা ইকোনোমিস্ট এক নিবন্ধে জানায়, ‘ইণ্ডিয়ার টাকা ও উপদেশের থলে (Bags of Indian Cash and advice) কীভাবে সেই নির্বাচনে ভূমিকা রেখেছিল! আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এমএ জলীলও সেই নির্বাচনের গোমড় ফাঁক করে গেছেন। এর পরেও সেই নির্বাচন কমিশন সতী হিসাবে প্রতিপন্ন হলেন এই সুশীলদের কাছে! ২০১৪ তে ৩০০ সিটের মধ্যে ১৫৩ আসনে একটি ব্যালটেও ছাপ দেওয়ার দরকার পড়ে নি। বাকি আসনগুলিতে ৫% ভোটারও উপস্থিত হয় নাই। তারপরেও নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় চল্লিশ ভাগের উপরে ভোট কাষ্টিং দেখানো হয়েছে। ইনিও সতী চেহারা ধারণ করেই  বিদায় নিয়েছেন! ২০১৮-তে দিনের ভোট আগের নিশিথেই শেষ করে ফেলা হয়। এর আগে অর্ধ শত প্রার্থীকে শারীরিকভাবে জখম  করা হয়েছে। উর্দি পরা এবং উর্দিবিহীন গুন্ডা বাহিনী ভোটের আগে বিরোধী দলের নেতা কর্মীকে এলাকা ছাড়া করেছে। ভোটারগণ ভোট দিতে গেলে সবিনয়ে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, বাড়ি ফিরে যান, আপনার ভোট দেয়া হয়ে গেছে। এর পরেও নির্লজ্জ ও বেহায়া সিইসি সালমান খাঁনের মত নিজের সতীত্বের ঢোল পিটিয়েই যাচ্ছেন। আগের তিনটি সতী ছিল এনালগ।

২০২৪ এর জন্যে প্রস্তুত করা হচ্ছে ডিজিটাল সতী। তার প্রস্তুতি হিসাবে সামনের মেয়র নির্বাচনকে বেছে নেয়া হয়েছে। বিএনপিও নাকি এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এই নির্বাচন কমিশনের ভার্জিনিটি আরেকবার পরখ করার জন্যে। নেতাদের মধ্যে বাবু গয়েশ্বর রায় বোধহয় পরিস্থিতি একটু মালুম করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আমরা জেনে শুনে বিষ পান করছি।  এক সময়  উচ্চ আদালত, সেনাবাহিনীর মত প্রতিষ্ঠান নিয়ে সত্যিই  গর্ব করা যেতো। যে কোনো বড় দুর্যোগে সবার চোখ পড়ত রাষ্ট্রের এই দুটি ইনষ্টিটিউশনের উপর।

গর্বের এই ইনষ্টিটিউশনগুলোকে আজ কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে — তা নিয়ে আফসোস করা ছাড়া অন্য  কিছু করার নেই।  রাষ্ট্রের ইনষ্টিটিউশনগুলো নানা চড়াই উৎরাই পার হয়ে  মেরুদন্ডটি  সোজা করার পানে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছিল। সেই অগ্রযাত্রাটুকু থামিয়ে দেয়া হয়েছে।  বর্তমান সরকারের লোভ আর প্রতিহিংসা স্পষ্ট হয়ে উঠছে প্রত্যেকটি তথাকথিত স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে। থানা পর্যায়ের একজন সরকার দলীয় নেতার কাছে শত শত কোটি টাকা পাওয়া যায়। অথচ মাত্র দুই কোটি টাকার কথিত অভিযোগে দেশের তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী, দুই বারের বিরোধীদলীয় নেত্রী, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এবং প্রাক্তন সেনাপ্রধানের স্ত্রীকে জেলে ভরে রাখা হয়েছে। খোয়া যাওয়া সেই টাকা ব্যাংকের একাউন্টে থেকে  দুই থেকে ছয় কোটি টাকা হয়েছে। অথচ ব্যাংকের ভো? থেকে সোনা উধাও হয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের শত শত কোটি টাকার রিজার্ভ উধাও হয়েছে, দেশ থেকে নয় লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে, শেয়ার বাজার থেকে লাখ কোটি টাকা গায়েব হয়ে গেছে। সেতু, কালভার্ট বানানোর খরচে পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ এই দেশ। সেই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী প্রিন্স মুসার মত দামী ঘড়ি এবং স্যুট পরেন। সেগুলো নাকি ভক্তরা প্লেটোনিক প্রেমের কারণে গিফট করে। এই ব্যাখ্যা শুনেও ‘ভার্জিন দুদকের কিছুই উত্থিত’ হয় না।

সালমান খানের মতই কথিত ভার্জিনিটির মত এদের ভেতরটা  সদরঘাট হলেও বাইরে একটা ফিটফাট ভাব বজায় রাখেন। এদেশের গণমাধ্যম এদেরকে প্রশ্নবানে জর্জরিত করার পরিবর্তে  তাদের সেই সব ভার্জিনিটির কথা প্রচারের সুযোগ করে দেয়। লুটপাটে যে সরকার বিশ্ব রেকর্ড করেছে সেই সরকারের অর্থমন্ত্রী বিশ্বের সেরা অর্থমন্ত্রীর পদক পান! যে পুরস্কারের নাম দেশবাসী  আগে কখনো শুনে নাই। সেই খবর আবার লাইন ধরে এদেশের গণমাধ্যম প্রচার করে। আশা করা যাচ্ছে অতি সত্ত্বর বিদেশের কোনো সংস্থা নুরুল হুদাকে পৃথিবীর সেরা নির্বাচন কমিশনার   হিসাবে ঘোষণা দিবেন।

এক্ষেত্রে বিচারপতি হাবিবুর রহমানের কথা বার বার স্মরণ হয়ে যায়। তিনি বলে গেছেন, দেশটি বাজিকরদের হাতে পড়েগেছে। ভদ্রলোকের প্রজ্ঞা এবং পর্যবেক্ষণ দেখে বিস্মিত হতে হয়। এক কথায় দেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত চমতক্ষারভাবে তুলে ধরেছেন। এদেশের পাবলিককে এই বাজিকরেরা নেহায়েত নাবালক ঠাহর করে। জানি না জনগণ তাদের সাবালকত্ব কখন প্রদর্শন করতে পারবে নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ ভেলকি ইভিএম বা ইলেক্ট্রনিকভোটিং মেশিন। প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্র এবং নির্মোহ নিরপেক্ষপ্রশাসনিক কাঠামোর দেশগুলি যেখানে এই ইভিএম ব্যবহার থেকে বিরত রয়েছে সেখানে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত প্রশাসনিক কাঠামোতে এই মেশিনের কথা কল্পনাই করা যায় না । অথচএই  ইভিএম যে করেই হোক জাতিকে গেলাবেই। ষোলো কোটি মানুষের চোখের সামনে যে নুরুলহুদা নির্বাচন নামক সুন্দরীকে দলিত মথিত-চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছে, সেই একই ধর্ষক এবার ইভিএম নামক ডিজিটাল পর্দার আড়ালে কিছুই করবেন না — এটি বোধহয় অত্যন্ত নিরীহ  ধর্ষক মজনু মিয়াও বিশ্বাস করবে না। এখন বিএনপিসহ দেশবাসীর ঈমান আনয়নের কাজ শুরু হয়ে গেছে। মিডিয়াবালা মিথিলারাও নুরুল হুদারউক্ত কমিশনের ভার্জিনিটি প্রমাণে নিজ নিজ কাজ শুরু করে দিয়েছেন। ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী আতিকুল মিডিয়া বালাদের তন্তর-মন্তর অনুষ্ঠানে (টক শোতে) যুক্তি দেখিয়েছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবার সম্ভাবনা  না থাকলে জনাব তোফায়েল এবং আমুর মত ব্যক্তিত্ব দিন রাত এত পরিশ্রম করছেন কেন? সরকার পক্ষের নেতারা লেগে গেছেন এই কমিশন যে একদম ভার্জিন (নিরপেক্ষ) সেটা দেখাতে। এই সব বাজিকর বা জোকারদের দেখে সত্যিই মায়া হয়। উত্তর দক্ষিণের দুই প্রার্থী মাথায় টুপি পরে দেখাচ্ছেন সামনে কী কঠিন পরীক্ষায়  তারা অবতীর্ণ হতে যাচ্ছেন! উত্তরের আতিকুল আবার চায়ের দোকানে চা বানিয়ে সেই ছবিটি প্রচার করেছেন। তাকে টেক্কা দিতে বিএনপির প্রার্থী বাসের হেলপার সেজে সেটি প্রদর্শন করেছেন। আতিকুলের ব্যাপারটি বোধগম্য হলেও তাবিথ আউয়ালের এই লেফ-রাইট বোধগম্য হচ্ছে না। বিরোধী দলের রাজনীতি যেখানে হওয়া উচিত সমস্ত নির্বাচন বয়কট করে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং বেগম জিয়াকে জেল থেকে মুক্ত করার জন্যে সর্বাত্মক আন্দোলন শুরু করা। সেখানে সরকারের তালে তালে এই লেফ-রাইট অনেক ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। গণতান্ত্রিক দল হিসাবে বিএনপি অবশ্যি নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে। কিন্তু তার আগে নির্বাচনের পরিবেশটি তৈরি করতে হবে।

গত সাধারণ নির্বাচনে এই পরিবেশ সৃষ্টি না করে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা যেমন আত্মহত্যার শামিল হয়েছে সেই একই ভুল বিএনপি আরেকবার করতে যাচ্ছে! সাধারণ নির্বাচনের আগে গণভবনে গিয়ে টাফ রাজনৈতিক দরকষাকষির পরিবর্তে প্রাক্তন সহযোগীদের মিলন মেলা বানিয়ে ফেলেছিলেন। মানলাম, ২০১৪ তে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা যে সঠিক ছিল তা দেখাতে ২০১৮-তে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের এক ধরণের তাগিদ ছিল। সেই একই তাগিদ কি এখনো বিদ্যমান?

সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মূল টার্গেট পরবর্তীসাধারণ নির্বাচনে ইভিএমকে গ্রহনযোগ্য হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা । এখানে সরকারের টার্গেট পরবর্তি সাধারণ নির্বাচন আর বিএনপির টার্গেট শুধু একটি মেয়রের পদ। বিএনপিকে একটি মেয়রের পদ দিয়ে হলেও সরকার যদি ইভিএমকে গ্রহনযোগ্য করতে পারে তাতে কার  লাভ? এই মেয়র দিয়ে (যদি দিয়েও দেয়) বিএনপি বা দেশবাসী আসলেই কী করবে?