নিউজ

তারেক রহমানের ঘোষণা: টেইক ব্যাক বাংলাদেশ

লণ্ডন, ২৩ জানুয়ারী – বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বাধীন দেশের নাগরিকরা নিজ দেশেই এখন যেন পরাধীন। শুধু পরাধীনই নয়, আরো উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, এখন ধীরে ধীরে দেশের ভৌগোলিক স্বাধীনতাও হুমকির মুখে ফেলে দেয়া হয়েছে। তাই এবারের আন্দোলন মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন। এই আন্দোলনের শ্লোগান, টেইক ব্যাক বাংলাদেশ।

গত ১৯ জানুয়ারী, রবিবার স্বাধীনতার ঘোষক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলে। বিএনপিসহ বাংলাদেশের পক্ষের শক্তিকে এই আন্দোলনর জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই আন্দোলন শুধুমাত্র বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার আন্দোলন নয়, এই আন্দোলন মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন, জনগণের বাংলাদেশ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার আন্দোলন। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, প্রায় প্রতিদিন সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যা করা হচ্ছে, নানা অজুহাতে ভারত থেকে পুশ ব্যাক চলছে, বাংলাদেশের প্রতিবাদ করার সাহস নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করে ভারত বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন পাশ করার ফলে বাংলাদেশে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সুতরাং এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় ভেবে চুপ করে থাকার সুযোগ নেই, তারপর এই সত্য কথাটি বাংলাদেশ সাহস করে বলতে পারছে না। বাংলাদেশ তিস্তা চুক্তি করতে ব্যর্থ হচ্ছে অথচ বছরের পর বছর ধরে ফেনী নদীর পানি নিচ্ছে ভারত। বাংলাদেশের নিজেদের অধিকারের পক্ষে কথা বলার সাহস নেই। বিমানবন্দর তৈরির অজুহাতে বাংলাদেশের জমি দখল করতে চায় ভারত অথচ বাংলাদেশের কোনো প্রতিবাদ নেই। তারেক রহমান আরো বলেন, পররাষ্ট্রনীতি হওয়া উচিৎ পার?রিক স্বার্থ ও মর্যাদার ভিত্তিতে অথচ বাংলাদেশ নির্লজ্জভাবে চালু করেছে স্বামী-স্ত্রীর কূটনীতি। বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নির্যাতিত হচ্ছে, লাঞ্চিত হচ্ছে, সহায় সম্বলহীন অবস্থায় বিদেশ থেকে দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছে, অথচ কিছুই করতে পারছেনা সরকার। বিএনপিৃর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন বলেন, ভারত নাকি বাংলাদেশের কাছে প্রচ্চাব দিয়েছে, পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই একটি ূবিশেষ পাশ ইস্যুর মাধ্যমে ৪৮ অথবা ৭২ ঘন্টার জন্য ভারতীয় নাগরিকদেরকে বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দেয়ার জন্য। তারেক রহমান বলেন, এ ধরণের পরিকল্পনা হবে বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লক্ষ লক্ষ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। এরই মধ্যে দুইবছর অতিবাহিত হওয়ার পরও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে চরমভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে সরকার। তারেক রহমান বলেন, এখনই  বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে না দাঁড়ালে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে দেশ। তাই বাংলাদেশ রক্ষায় আন্দোলন – টেক ব্যাক বাংলাদেশ। প্রায় ১ ঘন্টা ৩৫ মিনিটের বক্তৃতায় তারেক রহমান, ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাতে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে অবৈধ সরকার গঠন, ওয়ার্হ্ব ইকোনমি ফোরামের রিপোর্টে বাংলাদেশের অর্থ-সামাজিক প্রায় সকল ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের নাজুক অবস্থান। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি আলহ্বাজ এম এ মালিক এর সভাপতিত্বে ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পারভেজ মল্লিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ খান এর যৌথ পরিচালনায় আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, শাইস্তা চৌধুরী কুদ্দুস, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ চৌধুরী, যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, মুজিবুর রহমান মুজিব, ইকরাম মুজুমদার, যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন, নাসিম আহমেদ চৌধুরী, যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেসবাহুজ্জামান সুহেল, সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসিত বাদশাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, মোশাহিদ তালুকদার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্দুল মজিদ তাহের, যুক্তরাজ্য যুবদলের সাবেক আহবায়ক দেওয়ান মুকাদ্দেম চৌধুরী নিয়াজ, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের নেত্রী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, যুক্তরাজ্য যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন, যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি নাসির আহমেদ শাহীন, যুক্তরাজ্য আইনজীবী ফোরাম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার হামিদুল হক আফিন্দি, যুক্তরাজ্য জাসাস সভাপতি এমাদুর রহমান এমাদ, ওহ্বহাম বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন, ইস্ট লণ্ডন বিএনপির সভাপতি ফখরুল ইসলাম বাদল, লুটন বিএনপির আহবায়ক আব্দুল হাই, লণ্ডন মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ চৌধুরী। এছাড়াও যুক্তরাজ্য বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান শুরু হলেও দুপুর থেকেই যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন জোনালের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠান স্থলে সমবেত হতে দেখা যায়।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close