মিনিস্ট্রি অব জাস্টিসের তথ্য: নাইফ ক্রাইমে সর্বোচ্চচ রেকর্ড

নিউজ

২২,২৮৬ নাইফ ও অস্ত্র অপরাধ সংঘটিত
গত বছর শুধু লণ্ডনেই ১৪৯টি হত্যাকাণ্ড
রেডব্রিজে এক সঙ্গে তিন জন খুন
পুলিশ খাতে সরকারের অপ্রতুল বাজেটের সমালোচনা লণ্ডন এসেম্বলির

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ২৩ জানুয়ারী – এক দশকের মধ্যে বৃটেনে সর্বোচ্চ নাইফ ক্রাইম সংঘটিত হয়েছে। সম্প্রতি মিনিস্ট্রি অব জাস্টিস কর্তৃক প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে এই ভয়াবহ চিত্র ওঠে এসেছে। এতে দেখানো হয়েছে যে, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের সেপটেম্বর পর্যন্ত ইংল্যাণ্ড ও ওয়েলসে ২২,২৮৬ নাইফ এবং মারাত“ক আক্রমাণাতত্মক অস্ত্রের অপরাধ রেকর্ড করা হয়েছে। গত একবছর ৩ শতাংশ বাড়লেও ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পুরো দশকের মধ্যে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়েছে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া ১৪,১৩৫টি নাইফ সংক্রান্ত অপরাধ পুলিশ ও আদালতের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়। গতবছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে শুধু রাজধানী লণ্ডনেই ১৪৯টি খুনের ঘটনা ঘটে যা দশকের মধ্যে সবেচেয়ে রক্তাক্ত বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া গতবছর ৯০টি মারাত“ক ছুরিকাঘাতের ঘটনার পাশাপাশি মাত্র পাঁচ বছরে লণ্ডনে ৫০ শতাংশ খুনের হার বেড়েছে। মেট পুলিশ প্রধান ক্রেসিডা ডিক অপরাধ দমনকে তাঁর পুলিশবাহিনীর জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও অঙ্গীকার করেছিলেন যে, ২০ হাজার নতুন পুলিশ অফিসার বৃটেনের রাস্তায় নামাবেন। মিনিস্ট্রি অব জাস্টিসের সদ্য প্রকাশিত এই পরিসংখানের পর প্রধানমন্ত্রীর এক মুখপাত্র বলেছেন, নাইফ ক্রাইম দমনে সরকার শীঘ্রই জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।  পূর্ব লণ্ডনের রেডব্রিজে এক সাথে ৩ খুন: সম্প্রতি পূর্ব লণ্ডনের রেডব্রিজ বারার সেভেন কিংসে ভয়াবহ এক সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে একসাথে ৩ জনের প্রাণহানী ঘটেছে। স্থানীয় শিখ কমিউনিটির ৩ যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তম্মধ্যে ২৯ বছর বয়সী গুরজিৎ সিংকে ২১ জানুয়ারী, মঙ্গল রেডব্রিজ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হাজির করে তার বিরুদ্ধে জনসম্মুখে প্রাণঘাতি অস্ত্র বহনের অভিযোগ গঠনের পাশাপাশি খুনের সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদও অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া অপরজনকে পুলিশ কাস্টডিতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে তাদের বিশ্বাস যে, নৃশংস এই ত্রিপল মার্ডার কোনো ধরণের গ্যাং সম্পর্ক নেই এবং? এই পর্যায়ে তারা আর কাউকে গ্রেফতারের জন্য খুঁজছে না।
ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৯ জানুয়ারী, রোববার দিবাগত রাতে। মেট পুলিশ জানিয়েছে, রাত ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে ইলফোর্ডের সেভেন কিংস এলাকার এলমস্টেড রোডে একদল যুবক বিশৃখঙল পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে পুলিশ ডাকা হয়। পুলিশ সেখানে গিয়ে পাশাপাশি ২০ এবং ৩০ বছর বয়সী তিনজনকে ছুরিকাহত অবস্থায় উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত ঘোষণা করে পুলিশ। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে ২৯ এবং ৩৯ বছর বয়সী দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে একটি পার্টি চলছিল। পার্টির মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পর ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। নিহতরা ছুরিকাহত হয়ে একে অন্যের খুব কাছাকাছি পড়েছিল। নিহতরা একে অন্যের পরিচিত এবং স্থানীয় শিখ কমিউনিটির। নিহতরা হলেন বালজিৎ সিং (৩৪), নরিন্দার সিং (২৬) এবং হরবিন্দর কুমার (২২)।  নির্মাণ (কন্ট্রাকশন) কাজের অপরিশোধিত অর্থ নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এমন কি ঘটনার ব্যাপারে শিখ কমিউনিটির দুটি গ্রুপ জড়িত থাকতে পারে বলেও ধারণা পুলিশের। ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শননে ছুটে যান লণ্ডন মেয়র সাদির খান।

তিন শিখ যুবক হত‍্যাকাণ্ডের শিকার

এদিকে, লণ্ডন এসেম্বলির পক্ষ থেকে সরকারের পুলিশ ফাণ্ডিংয়ের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। সরকারের পুলিশ ফাণ্ডিংয়ে ঘোষণার জবাবে লেবার লণ্ডন এসেম্বলির পুলিশিং এণ্ড ক্রাইম ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র উমেশ দেশাই এক ই-মেইল বার্তায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি সরকারের পুলিশিং বাজেটের সমালোচনা করে বলেন, ১ বিলিয়ন পাউণ্ড বাজেট কর্তনের ফলে দশকের বেশী সময় ধরে সমস্যা কবলিত পুলিশ খাতে মাত্র ২শ মিলিয়ন পাউণ্ড বরাদ্দের পরিমাণ আপাতদৃষ্টিতে কিছুটা বড় মনে হলেও তা অপরাধ দমনের জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, এতে লজ্জিত হওয়ার কিছুই নেই যে, ২০১০ সাল থেকে একের পর এক ফাণ্ড কাটের কারণে আমাদের রাস্তায় সহিংস অপরাধের মাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাঁর মতে, লণ্ডনের বিশেষত দরিদ্রতম বারাগুলোর বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছেন। তিনি বলেন, এটা জরুরী যে – সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কমিউনিটি, স্কুল এবং?ইয়ূথ সার্ভিসে যথাযথ বরাদ্দের সাথে সাথে লণ্ডন সিটিতে অন্তত ৬ হাজার পুলিশ অফিসার নিয়োগ আবশ্যক। অপরাধপ্রবণতাকে আমাদের প্রশ্রয় দেয়া উচিৎ মন্তব্য?করে তিনি বলেন, এসব মোকাবেলার একটাই উপায় যে, যুব সহিংসতা ও অন্যান্য অপরাধের কারণগুলি খুঁজে বের করতে সক্ষম হওয়া।