লণ্ডনে ‘ওয়াসাতিয়া: দি মিডল পথ’ সেমিনার অনুষ্ঠিত

নিউজ

ঘৃণা ও উগ্রপন্থা মুসলিম খ্রিস্টান কিংবা ইহুদি কাউকে কিছু দিতে পারেনি : ড. দাজানি

।। বিশেষ প্রতিবেদক ।।
লণ্ডন, ৪ ডিসেম্বর – মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঘৃণা, গোষ্ঠীগত প্রাধান্য আর সহিংস মনোভাব মানুষকে মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত করছে। দিনের পর দিন এইসব নেতিবাচক উপাদান মানবতাকে গ্রাস করতে বসেছে।লন্ডনে অন্ত ধর্ম সম্পর্ক ও সহাবস্থান সম্পর্কে এক সেমিনারে বক্তারা বলেন, পবিত্র কোরানে ওয়াসাতিয়া বা মধ্য পথে চলার যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, সেই নির্দেশনা অনুসরণের মাধ্যমেই বিশ্বে বিরাজমান অনেক সংকটের সমাধান সম্ভব।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফিলিস্তিনী বংশোদ্ভুত বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. মোহাম্মেদ দাজানি দাউদী।  ড. দাজানি ২০০৭ সালে জেরুজালেম থেকে ওয়াসাতিয়া নামে এই সামাজিক আন্দোলনের সূচনা করেন। প্রতিবছর জেরুজালেম এবং আরব ও বহির্বিশ্বের বিভিন্ন শহরে “ওয়াসাতিয়া”র সঙ্গে বিভিন্ন দেশ, গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন সম্মেলন এবং নানা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।

সুরমা অফিসে আড্ডা

সম্প্রতি ড. দাজানি’র লন্ডন সফর উপলক্ষে পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল সেন্টারে এই সেমিনার আয়োজন করেন লন্ডনে বসবাসরত ওয়াসাতিয়া’র ফেলোবৃন্দ। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং ওয়াসাতিয়া আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ড. মোহাম্মেদ দাজানি দাউদী  বলেন, ঘৃণা ও উগ্রপন্থা মুসলিম খ্রিস্টান কিংবা ইহুদি কাউকে কিছু দিতে পারেনি। এই সংস্কার, পরস্পরকে বোঝা আর সহাবস্থানের আন্দোলন শুরুর পর থেকে অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, আল কুদস বিশ্ববিদ্দালয় থেকে তাঁর চাকুরীচ্যুতি, জীবনের উপর হামলা আর গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মতো ভয়াবহ ঘটনার মুখোমুখি তাঁকে হতে হয়েছে। আমাদের রাসূলের জীবন থেকে যদি আমরা প্রকৃত শিক্ষা নেই তাহলে দেখবো অত্যাচার আর অনাচার সহ্য করেই তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন। সুতরাং কোনো ত্যাগ ছাড়া যদি আমরা পৃথিবীতে কোনো পরিবর্তন আনতে চাই সেটা কখনো সম্ভব নয়. লন্ডনে, ইউরোপে, নিউজিলান্ডে সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন সময়ে উগ্রপন্থী ঘটনার কথা উল্লেখ করে সেমিনারে বক্তারা লন্ডন থেকে সমগ্র ইউরোপে ওয়াসাতিয়া : মিডল পথ নামে একটি সর্বাত্মক আন্দোলন শুরুর আহ্বান জানিয়ে বক্তারা এই আন্দোলনের সঙ্গে তাঁদের নিজ নিজ কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ড. মোহাম্মেদ দাজানি দাউদী  বলেন, ঘৃণা ও পরস্পরের প্রতি সহিংসতা বিশ্বকে উপহার দিয়েছে পরপর দুটি বিশ্বযুদ্দ্ব আর শ’ শ’ মানবতা বিধ্বংসী রক্তাত্ত ঘটনাবলী। তারপরও ঘৃণা আর সহিংসতার মাধ্যমেই সকল সমস্যার সমাধান খোঁজা হচ্ছে।তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, শুধু রাজনীতি আর কূটনীতিকে দায়ী করে বিশ্বনাগরিক তার দায়  এড়াতে পারে না। ফিলিস্তিনী কবি আহমেদ দারবিশ’এর কবিতার উদৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বড় স্বপ্নের পেছনে তাড়া করে আমরা ক্ষুদ্র আশা জলাঞ্জলি দিয়ে যাচ্ছি দিনের পর দিন. সেই বড় স্বপ্ন হলো তিনি মরক্কো আর ফিলিস্তিনে ওয়াসাতিয়া সম্মেলনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, সেখানে ইসলামী আর ইহুদী পন্ডিতগণ তাঁদের নিজেদের পক্ষে বড় স্বপ্ন অর্থাৎ নিজেদের বিজয় আর প্রতিপক্ষের প্রতি ঘৃণা নিয়ে হাজির হন ধর্মগুরুরা। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য,  কোনো ধর্মই এই ধরণের উগ্রতা আর অপর বিশ্বাসকে   আদর্শ আর মূল্যবোধকে সমর্থন করতে পড়তে পারেনা। হচ্ছে শুধু নিজের ধর্ম আর বিশ্বাস রেখে বাকি সব নির্মূল করা , আর ক্ষুদ্র আশা হচ্ছে যে কোনো অবস্থায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান। সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শেখ আখলাক আহমেদ’এর সভাপতিত্বে , সাংবাদিক শামসুল আলম লিটন’র সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সলিসিটর বিপ্লব কুমার পোদ্দার, ব্যারিস্টার মাহাদী হাসান,  সাংবাদিক আহমেদ ময়েজ, সিভিল একটিভিস্ট মু, শাহ আলম, মেজর(অব.) জহির ও সাংবাদিক মুহাম্মদ মোহসিন।