নিউজ

টেরিজার পর বরিসও ব্যর্থ: আবার পেছালো ব্রেক্সিটের দিনক্ষণ

সুরমা প্রতিবেদন
লণ্ডন, ২৯ অক্টোবর – আবারো পেছালো ব্রেক্সিট চুক্তি বাস্তবায়নের দিনক্ষণ। পূর্ব নির্ধারিত তারিখ ৩১ অক্টোবর থেকে পিছিয়ে তা আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারী করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের অনুরোধের জবাবে ২৭ অক্টোবর, সোমবার বিচ্ছেদের এই নতুন সময়সীমা অনুমোদন করে ইইউ।
এর ফলে এ মাসের ৩১ অক্টোবর বহুল আলোচিত এই বিচ্ছেদ ঘটার কথা থাকলেও তা আর হচ্ছে না। এ নিয়ে তিন দফা পিছিয়ে গেল ইইউ জোট থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে আসার আয়োজন।

সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে ব্রেক্সিট বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থেকেও তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। বিভিন্ন সময়ে দেয়া তাঁর বিখ্যাত বক্তব্য ছিলো- ‘ব্রেক্সিট মিন ব্রেক্সিট’। শেষ পর্যন্ত পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করতে স্ন্যাপ ইলেকশনও করেন। ২৯ মার্চ ব্রেক্সিট হবেই- বারবার এমন হুমকার দিয়েও কিছুতেই তিনি আর ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করতে পারেননি।
অত:পর ‘ডু এর ডাই’ ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট কার্যকর করব— এমন জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী বরিস জনসন। কিন্তু পার্লামেন্টে বিরোধীদের উদ্যোগে প্রণীত এক আইনের কারণে (বেন অ্যাক্ট নামে পরিচিত) তিনি ইইউর কাছে বিচ্ছেদের দিনক্ষণ তিন মাস পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানাতে বাধ্য হন।
সংখ্যাগরিষ্ঠতাবিহীন প্রধানমন্ত্রী বরিস ৩১ অক্টোবরের আগে চুক্তিতে পার্লামেন্টের অনুমোদন আদায় করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর প্রস্তাবে সায় দেয়নি পার্লামেন্ট।
ইইউর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বলেছেন, সম্পাদিত বিচ্ছেদ চুক্তিতে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের অনুমোদন সাপেক্ষে আগেই ব্রেক্সিট কার্যকর করা যাবে। তিনি জানান, নীতিগতভাবে এই সময় বৃদ্ধির বিষয়ে সম্মত হয়েছে ইইউ জোট।

এদিকে উপায়ান্তর না দেখে প্রধানমন্ত্রী বরিস আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব উত্থাপন করতে চাচ্ছেন। কিন্তু ব্রেক্সিট সমস্যা সমাধানের আগে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সায় নেয় প্রধন বিরোধী দল লেবারের। তবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক এবং স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (এসএনপি) আগামী ৯ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব তুলছে। তাদের যুক্তি, ৯ ডিসেম্বর নির্বাচন হলে সরকার ব্রেক্সিট বিল নিয়ে পার্লামেন্টে নতুন করে আলোচনার সুযোগ পাবে না। দল দুটি ব্রেক্সিটের ঘোর বিরোধী এবং বিষয়টিতে পুনরায় গণভোট চায়।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Back to top button
Close
Close