কোর্টের রায়ে চালু হওয়া ব্রিটিশ পার্লামেন্টে চরম উত্তাপ: প্রধানমন্ত্রীর ‘অগ্রহণযোগ্য’ ভাষা ব্যবহারে সমালোচনার ঝড়, অ্যাপোলজি দাবী, নতুন নির্বাচন চান অর্ধেকেরও বেশী ব্রিটিশ জনগণ

নিউজ

বরিস রুচিহীন: বোন রেইচেল জনসন

সুরমা প্রতিবেদন
লণ্ডন, ২৬ সেপ্টেম্বর – সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চালু হওয়া ব্রিটিশ পার্লামেন্ট প্রথম দিনেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে। একই সাথে ব্রেক্সিট ইস্যুতে উত্তাপ ছড়ানো ব্রিটিশ রাজনীতিতে দেখা দিয়েছে চরম বিভক্তি। এই বিভক্তি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশী খারাপের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পার্লামেন্ট স্থগিতের সিদ্ধান্তকে বেআইনী ঘোষণার পর ব্রিটিশ রাজনীতিবিদদের এই বিভক্তি চরম আকার ধারণ করেছে। সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পরের দিন স্পিকারের আহবানে আবার চালু হওয়া ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সরকারী ও বিরোধীদের বাক-বিতণ্ডায় চরম উত্তাপ ছড়ায়। বিশেষ করে প্রধানন্ত্রী বরিস জনসনের বিদ্রুপাত্মক ও বিপজ্জনক ভাষা ব্যবহারে সবাইকে অবাক করেছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অ্যাপোলজির দাবী উঠেছিলো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর তাঁর জন্য অ্যাপোলজি স্বীকার করা দূরে থাক, আরো বেশী বিদ্রুপাত্মক হয়ে উঠেন। তাঁর বিদ্রুপাত্মক বক্তব্য থেকে পার্লামেন্ট ও মৃত এমপি জো কক্সও বাদ পড়েননি, যিনি ছিলেন রিমেইন পন্থী। বরিস পার্লামেন্টকে ‘জ¤ি’^ বলে সম্বোধন করার পাশাপাশি কট্টর ডানপন্থিদের হাতে নিহত লেবার এমপির নাম উল্লেখ করে বলেন, জো কক্সকে সঠিক সম্মান ও স্মরণ করার সবচেয়ে উত্তম উপায় হলো ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন। প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। এর আগে এটর্নি জেনারেল জেফরিও পার্লামেন্টকে মৃত বলে সম্বোধন করেন। মৃত এমপি জো কক্সকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অসম্মানজনক বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে তাঁর পরিবার ও বন্ধুরা। শুধু তাই নয়, বরিস জনসনের বোন রেইচল জনসনও তাঁর মন্তব্যেকে ‘টেস্টলেস’ বলে মন্তব্য করছেন।

কট্টর ডানপন্থিদের হাতে নিহত লেবার এমপির জো কক্স। তাকে কটাক্ক করেন প্রধানমন্ত্রী বিরস।

প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য ও ব্যবহারে শুধু বিরোধীদের ও সুশীল সমাজকে হতবাক করেনি তাঁর নিজ দল টোরির অনেকেও মেনে নিতে পারেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ভাষা এধরনের হওয়া উচিত নয় এবং এধরনের ভাষার প্রয়োগ হতে তারা দেখেননি। স্পিকার জন বারকোও মিডিয়ার সাথে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, তাঁর দীর্ঘ বিশ বছরের দায়িত্ব পালনকালে এধরনের পরিস্থিতি হতে দেখেননি।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী এমপিরা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে গণতন্ত্র ও তাদের নিজের জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তাপ দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনেও অব্যাহত ছিলো। দ্বিতীয় দিনেও অধিবেশনের বেশীরভাগ আলোচনা ছিলো প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেও সমালোচনা। প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সকল সমালোচনার জবাব দেন পার্লামেন্টারি মিনিস্টার
এদিকে, ব্রেক্সিট ইস্যুতে পার্লামেন্টের অচলাবস্থায় জনমনেও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বিষয়টির সুরাহা কল্পে বেশীরভাগ জনগণ নতুন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। দ্যা ডেইলি মেইলির সাম্প্রতিক পরিচালিত জরিপে ৫৫ শতাংশ মানুষ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবী জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী বরসি জনসনরে র্পালামন্টে স্থগতিরে সদ্ধিান্তকে অবধৈ বলে রায় দয়িছেে সুপ্রমি র্কোট। সুপ্রিম কোর্টের ১২ জন বিচারকের মধ্যে ১১ জনই উক্ত রায় ঘোষণার সময় উপিস্থত ছিলেন। রায়ে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর পার্লামেন্ট স্থগিতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহী করার ভূমকিা পালন থকেে র্পালামন্টেকে বঞ্চতি করা হয়ছে।
আদালতরে ঐতিহাসিক রায়কে অভিনব, নজরিবহিীন এবং যেকোনো প্রধানমন্ত্রীর জন্য বড় শিক্ষা হিসেবে দেখো হচ্ছ। সাধারণ জনগণ দ্বারা সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রশংসিত হয়েছে।
রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গইে বরিোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনরে পদত্যাগরে দাবী করে আসতের।