ব্রেক্সিট ইস্যুতে বিপাকে সরকার: বরিসের বিপদে হাসছেন টেরিজা মে

নিউজ

অক্টোবরে সম্ভাব্য সাধারণ নির্বাচন, সরকারের বিরোধীতা করে বহিষ্কৃত ২১ টোরি এমপি, যাদের কাছে দল থেকে দেশই বড়

।। সুরমা প্রতিবেদন ।।
লণ্ডন, ৪ সেপ্টেম্বর – ব্রেক্সিট ইস্যুতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে মারাত্মক বিপাকে পড়েছে টোরি সরকার। বিষয়টি ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের দৃঢ় ঘোষণা দিয়ে সদ্য ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের স্বপদে টিকে থাকার জন্যও বিপদজনক। ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করতে দলের এমপিদের সহযোগিতা না পেয়ে প্রধানমন্ত্রীত্ব ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে। একই ইস্যুতে পার্লামেন্টে বিরোধীদলের সাথে নিজদের দলের এমপিদের কাছে নাজেহাল হতে দেখে হাসতে দেখা যায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’কে। নো ডিল ব্রেক্সিট ঠেকাতে ঐক্যজোট হয়েছেন প্রায় সবদলের এমপিরা। ফলে উক্ত ইস্যুতে সরকারের হাত থেকে ক্ষমতা চলে গেছে এমপিদের হাতে। এসব সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আবার নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে নো ডিল ব্রেক্সিট বিল ইস্যুর সুরাহা না কোনো নির্বাচনের বিরোধী লেবারসহ অন্যান্য দলের এমপিরা। ফলে নির্বাচনও অনেকটা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ব্রেক্সিট ইস্যুতে সরকারের বিরোধীতা করে টোরি পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বসহ ২১ এমপি বহিষ্কৃত হয়েছেন। বহিষ্কৃতরা তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, তাদের কাছে দলের চেয়ে দেশই বড়। বহিষ্কৃতদের মধ্যে ফাদার অব দ্যা নেশন চার্চিলের নাতি নিকোলাস সোয়ামস, সাবেক দুই চ্যান্সেলর যথাক্রমে কেন ক্লার্ক ও ফিলিপ হ্যামণ্ড রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কট্টর ব্রেক্সিট কৌশলের বিরোধিতা করে ব্রেক্সিটবিরোধী লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলে যোগ দিয়েছেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের আইনপ্রণেতা ফিলিপ লি। ৩ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার বরিস জনসন যখন পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখছিলেন তখনই ফিলিপ লি আসন পরিবর্তন করে লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের সারিতে গিয়ে বসেন। এর মধ্য দিয়ে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল বরিস জনসনের সরকার।

আগামী ৩১ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার দিনক্ষণ নির্ধারিত রয়েছে। এ বিচ্ছেদ কার্যকর করা নিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ইইউর সঙ্গে চুক্তি হোক বা না হোক কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নির্ধারিত ৩১ অক্টোবরই বিচ্ছেদ কার্যকর করতে চান। কিন্তু বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি সরকারি দলের অনেক আইনপ্রণেতা চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদে নারাজ। যে কারণে মুখোমুখি অবস্থানে পার্লামেন্ট এবং সরকার।

চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদ ঠেকাতে গতকাল পার্লামেন্টে প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন বিরোধীরা। ভোটাভুটির মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে সংসদের কার্যবিধির নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিয়েছেন। এর ফলে চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাবটি পাসের পথ অনেকটা পরিষ্কার হয়ে গেল। এ প্রস্তাব পাস হলে চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদ ঘটাতে পারবে না বরিসের সরকার। বিচ্ছেদের দিনক্ষণ পেছাতে ইইউর কাছে আবারও আবেদন জানাতে হবে।

তবে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, পার্লামেন্টে চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদ ঠেকাতে আইনপ্রণয়ন করলে আরেকটি সাধারণ নির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়বে। কোনো অবস্থাতেই তিনি বিচ্ছেদের দিনক্ষণ পেছানোর আবেদন করবেন না। 

বিরোধী দলের নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, ‘এই সরকারের প্রতি জনগণের কোনো সমর্থন নেই। এদের ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই এবং এদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাও নেই।’

ব্রেক্সিট নিয়ে ব্রিটিশ রাজনীতি এখন স্পষ্টভাবে দুই ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষ চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের ঘোর বিরোধী। আর অন্য পক্ষ যেকোনো উপায়ে এই বিচ্ছেদ চায়। বিষয়টি নিয়ে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যেও চলছে গৃহবিবাদ। চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে মঙ্গলবার পার্লামেন্টে প্রস্তাব পেশ করেছে বিরোধীরা।

তবে পার্লামেন্টে ওই প্রস্তাব তোলার আগে নিজ দলের বিরোধীদের সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, চুক্তিবিহীন বিচ্ছেদের সম্ভাবনা নাকচ হলে সাধারণ নির্বাচনের ডাক দেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সূত্র বলেছে, ব্রেক্সিট কার্যকর ব্যর্থ হলে ১৪ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

চুক্তি হোক বা না হোক, নির্ধারিত সময় ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট কার্যকর করতে চান প্রধানমন্ত্রী বরিস। কিন্তু তা ঠেকাতে মাঠে নেমেছে বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ। ব্রেক্সিট কার্যকর ঠেকাতে বিরোধীরা আইন পাস করতে পারে, এমন শঙ্কায় ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত পার্লামেন্ট স্থগিত রাখারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বরিস। তাঁর সেই সিদ্ধান্তও ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে।